Saturday, June 12, 2021
Home জাতীয় করোনায় বিপাকে পড়েছে শিশু শ্রমিকরা

করোনায় বিপাকে পড়েছে শিশু শ্রমিকরা

সমীকরণ প্রতিবেদক-

রাজধানীর কাঁঠালবাগান বাজার এলাকায় একটি ছোট রেস্টুরেন্টে সর্ব কনিষ্ঠ শ্রমিক কাজ করে, তার ভিতরে হানিফ একজন শিশু শ্রমিক। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা কাজ করতে হয় তাকে। শুরুতে তার কাজ ছিল শুধু টেবিল মোছা আর গ্রাহকদের পানির গ্লাস ভরে দেওয়া। বেশ চটপটে স্বভাবের। খুব অল্প সময়েই সে এখন অন্যান্য কাজের সঙ্গেও নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

হানিফের শিশু শ্রমিক হয়ে ওঠার কাহিনি খুব একটা সাদামাটা নয়। পড়ালেখা করার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু হানিফ তার স্বপ্ন ভুলে বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

হানিফদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে কটিয়াদি। বাবা সালাম মিয়া ভূমিহীন কৃষক ছিলেন। রোগাক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহের জন্য পৈত্রিক ভিটাটুকুও হারাতে হয়। বাধ্য হয়ে তারা চলে আসে ঢাকা। ওঠেন কাঁঠালবাগান এক খুপড়ি ঘরে। বাবা রিকশা চালান। যা আয় হয় তা দিয়েই তাদের সংসার চলতো। কিন্তু এভাবে বেশি দিন যায়নি। ঢাকা আসার একবছরের মাথায় বাবা মারা যান। হানিফকে নিয়ে তার মা চোখে অন্ধকার দেখেন। এমন সময় নিজ এলাকার সফুরা খালার সঙ্গে তার মা’র দেখা হয়। তিনিই একটি বাড়িতে কাজ খুঁজে দেন। হানিফ তার মায়ের কাছেই ঘরে পড়ালেখা করেছে। এরই মাঝে হানিফের মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় হানিফের মা যার বাসায় কাজ করতেন তিনি তার পরিচিত একটি রেস্টুরেন্টে হানিফের কাজের সুযোগ করে দেন। সেই থেকে হানিফ শিশুশ্রম বাজারের একজন সদস্য।

হানিফ সমীকরণকে জানায়, তেমন কষ্টের কাজ তাকে করতে হয় না। মালিক খুব ভালো মানুষ।

কী কী কাজ করতে হয় জানতে চাইলে হানিফ বলেন, প্লেট ধোঁয়া, পানি দেওয়া, টেবিল মোছা। এ কাজ কেমন লাগে জিজ্ঞেস করলে সে মাথা নিচু করে নীরব থাকে। বেতনের কথা জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়, ‘মায় জানে।’

দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। সরকার প্রথম দিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এরমাঝে একবছরের বেশি সময় চলে গেছে। কিন্তু অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। গত একবছর ধরেই দেশের মানুষ অনেকটাই অবরুদ্ধ করোনার কারণে। মানুষের রোজগারের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। কিন্তু চাহিদা কমেনি। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ বেকার জীবন-যাপন করছেন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা যেসব ঘরে কর্মজীবীরা কর্মহীন বসে আছেস।

হানিফের নিয়োগকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, ‘ওর মা অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। আমার বাসায় কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। আমার স্ত্রীর অনুরোধে হানিফকে এখানে কাজ দিয়েছি। টুকটুক কাজ করে। কোনো চাপ দেওয়া হয় না। খুবই চটপটে। ওর ব্যবহারে দোকানের গ্রাহকরাও খুশি। এতটুকু ছেলে কাজ করে সংসার চালায় নিজের কাছেই খারাপ লাগে। কিন্তু কী আর করতে পারি। করোনার কারণে ব্যবসা একেবারেই শেষ। রোজার কারণে এখন কিছুটা ইফতার বিক্রি হয়। করোনা না কমলে তো অবস্থা আরও খারাপ হবে।’

করোনার কারণে হানিফের মতো আরও অনেককে শ্রমবাজারে নিজেদের নাম লেখাতে হচ্ছে। কিন্তু সে বাজারের আকারও খুবই ছোট। সরকারি নানা উদ্যোগে শিশুশ্রম কিছুটা কমে এলেও একেবারে বন্ধ হচ্ছে না। সরকার ছয়টি শিল্প খাতকে শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করেছে। সে ঘোষণা শিশুশ্রম বন্ধে কতটা কার্যকর হবে সেটা নিয়েও সন্দেহ অনেকের।

ফার্মগেট থেকে নিউমার্কেট রুটে লেগুনা চালায় ফারুক। সে একসময় ঢাকা কলেজের সামনে একটি হোটেলে ধোঁয়ামোছার কাজ করতো। তার বয়স এখন ১৬। বিভিন্ন পেশা বদলে সে এখন লেগুনা চালক। হেলপার আজিম। তার বয়স ১২। জীবিকার তাগিদে সেও এখন শ্রম বাজারে।

ফারুক বলে, ‘করোনার কারণে মাঝেমধ্যে গাড়ি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সংসারে টাকা দিতে পারছি না। বাড়ি গেলেই বাবা বকাবকি করে। সে কারণে বাড়িতেও থাকতে পারি না। করোনার কারণে আমার মতো অনেকেই এখন বেকার। জানি না কী হবে।’ এসময় অনেকেই নেশার জগৎসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও সে জানায়।

- Advertisment -

সব খরব

একসঙ্গে দুইয়ের বেশি বাচ্চা জন্ম দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক- যমজ বাচ্চা প্রসবের ঘটনা এত বেশি ঘটছে যে এখন আর বিস্ময়কর লাগে না। আমরা তখনই অবাক হই যখন শুনি কোনো...

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়লো

নিজস্ব প্রতিবেদক- করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটির মেয়াদ আরেক দফা বাড়লো। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস আজ

সমীকরণ প্রতিবেদক- আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য— ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, শিশুশ্রমের অবসান’। বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ...

খুলনায় করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

সমীকরণ প্রতিবেদক- খুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার-শনিবার) করোনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়...