Tuesday, July 7, 2020
Home জাতীয় ড. আনিসুজ্জামান : প্রগতিশীল শিক্ষা-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর

ড. আনিসুজ্জামান : প্রগতিশীল শিক্ষা-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের বাতিঘর

সমীকরণ প্রতিবেদক- চলে গেলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান (৮৩)।  আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।  এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একজন বহুমুখী প্রতিভা, সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের জীবনাবসান হলো।

ড. আনিসুজ্জামান দীর্ঘকাল এদেশের প্রগতিশীল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে ছাড়া এদেশের বাঙালির সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অধ্যায়টি যেন কল্পনাই করা যায় না। নিজের লেখা, কর্মদক্ষতা, সর্বজনপ্রিয়তা—সবকিছু মিলিয়েই তিনি এই বঙ্গের প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণায় আলো ছড়িয়েছেন সুদীর্ঘকাল। শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি রাজপথেও সমান সক্রিয় থেকেছেন বাঙালির সব ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। বাঙালির সেই ‘বাতিঘর’ নিভল আজ বিকেলে।

দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন ড. আনিসুজ্জামান। গত ২৭ এপ্রিল হার্ট, কিডনিসহ বেশ কিছু রোগ নিয়ে তিনি মহাখালীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গত ৯ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। আজ বিকেলে সেখানেই মারা যান তিনি।

অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সমাজহিতৈষী, গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও ব্যক্তিগত মণীষা দিয়ে নিজেকে পরিণত করেছিলেন দেশের অগ্রগণ্য পুরুষে। তাঁর মৃত্যুতে যবনিকা ঘটল এক কিংবদন্তির জীবনের। তিনি স্ত্রী সিদ্দিকা জামান, দুই মেয়ে রুচিবা ও শুচিতা এবং একমাত্র ছেলে আনন্দসহ অংসখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বাংলাদেশের কীর্তিমান এ মানুষটির মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশে।

উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, আনিসুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান (১৯৬৯) ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ড. কুদরাত-এ-খুদাকে প্রধান করে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম এ টি এম মোয়াজ্জেম। তিনি ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। মা সৈয়দা খাতুন গৃহিণী হলেও লেখালেখির অভ্যাস ছিল। পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক। আনিসুজ্জামানরা ছিলেন পাঁচ ভাইবোন। তিন বোনের ছোট আনিসুজ্জামান, তারপর আরেকটি ভাই। বড় বোনও নিয়মিত কবিতা লিখতেন।

আনিসুজ্জামান কলকাতার পার্ক সার্কাস হাইস্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর বাংলাদেশে চলে আসেন এবং খুলনা জেলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এক বছর পর সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন এবং প্রিয়নাথ হাইস্কুলে (বর্তমান নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৫৭ সালে একই বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাংলা একাডেমির গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা (১৭৫৭-১৯১৮) বিষয়ে পিএইচডি শুরু করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উনিশ শতকের বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস : ইয়ং বেঙ্গল ও সমকাল বিষয়ে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন।

আনিসুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরে সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে আবার যুক্ত হন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি।

আনিসুজ্জামান শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাঁকে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করা হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাঁকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এ ছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দুবার আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার, ২০০৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট. ডিগ্রি এবং ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।

সুত্র-এনটিভি

- Advertisment -

সব খরব

ভিক্ষুককে দোকান করে দিলেন জায়েদ খান

সমীকরণ প্রতিবেদক: এমদাদের দুটি পায়ে সমস্যা। পিরোজপুর সদরে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে। যা আয় হয় তা দিয়েই চলে...

ঝিনাইদহে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে জনতার হাতে ইউপি সদস্যসহ নারী আটক

আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্টাফ রিপোর্টর-ঝিনাইদহের শালিয়া গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে জনতার হাতে ইউপি...

ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পর্যায় সম্পন্ন: বায়োটেকের দাবি

সমীকরণ প্রতিবেদক- বাংলাদেশের অন্যতম ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।...

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৩৮, আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়াল

সমীকরণ প্রতিবেদক-করোনাভাইরাসে দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪০১৯ জন। বৃহস্পতিবার করোনা...