Saturday, May 28, 2022
Home ঝিনাইদহ ঝিনাইদহে আজ ৬ই ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস

ঝিনাইদহে আজ ৬ই ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত দিবস

সাজ্জাতুল জুম্মা, ঝিনাইদহ- মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার ও তাদের এদেশের দোসরদের হটিয়ে ঝিনাইদহকে শত্রুমুক্ত করে।

মুক্তির আনন্দে সেদিন রাস্তায় নেমে আসে নারী-পুরুষ সহ সর্বস্তরের মানুষ। উল্লাসে আর আনন্দে সেদিন তারা ফেটে পড়ে। তবে এদেশকে মুক্ত করতে যারা অকাতরে জীবন বির্সজন দিয়েছিল আজও তাদের অনেকের কবর অরক্ষিত রয়েছে। এ দিনে করেনাকালীন সময় হওয়ার কারনে পশাসনের পক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে দোয়া ও আলোচনা সভা শুরু হবে।

সুত্রমতে, ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের পর-পরই তার নির্দেশ মত যার যা ছিল তাই নিয়ে ঝিনাইদহের দামাল ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। ভারত থেকে প্রশিক্ষন শেষে তারা পাক হানাদারদের সাথে অসংখ্য সম্মুখ সমরে যুদ্ধে অংশ নেয়। এ সব যুদ্ধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হচ্ছে ১ এপ্রিল সদর উপজেলার বিষয়খালী সম্মুখ যুদ্ধ. ৪ এপ্রিল শৈলকুপা উপজেলার গাড়াগঞ্জ যুদ্ধ, ৪ আগষ্ট একই উপজেলার আলফাপুর যুদ্ধ ১৪ অক্টোবর আবাইপুর যুদ্ধ, ২৬ নভেম্বর কামান্না যুদ্ধ এবং শৈলকুপাকে মুক্ত করার জন্য ৮ এপ্রিল, ৬ আগষ্ট, ১৭ আগষ্ট ও ১১ই নভেম্বরের যুদ্ধ। এসব যুদ্ধে অনেক চেনা-অচেনা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

ঝিনাইদহ শহরকে শত্রু মুক্ত করার জন্য মিত্র-বাহীনিকে সাথে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে সাড়াশি আক্রমন চালিয়ে ৬ ই ডিসেম্বর ঝিনাইদহকে হানাদার মুক্ত করে। শহীদ এ সব মুক্তিযোদ্ধাদের কবর আজও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শহীদদের এসব কবরস্থান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ঠিকমত করা হয় না। এ দিবস উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করেনা চলমান থাকার কারনে তেমন কোন কর্মসুচি পালনা করা না হলেও আজ বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

এ বিষয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা তোয়াজ উদ্দিন জানান, তারা মুক্তিযুদ্ধের পাগল সৈনিকরা ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে সদর উপজেলার বিষয়খালি ব্রীজের নিকট অবস্থান নেয়। পাক বাহিনীদের দেখে তারা ব্রীজটি উড়িয়ে ফেলে পাক সেনাদের পথ গতিরোধ করে। সে সময়ে সরাসরি যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা কয়েকজন নিহত হন ও তাদের গুলিতে ২০-২৫ জন পাক সেনারা নিহত হন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেন জানান, ১লা এপিল্র থেকে শুরু করে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে যুদ্ধ করে পাক সেনা ও রাজাকারদের হটিয়ে জেলাকে ৬ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত করলে এ দিনটি হানাদার মুক্ত দিবস হিসাবে পালন করা হয়ে থাকে। তবে তারা ক্ষোভ জানান, এখনও অনেক শহীদদের কবরও আজও অরিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, করেনা দুর্যোগের কারনে স্বল্প পরিসরে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্যে দিয়ে এ দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।

 

 

- Advertisment -

সব খরব

মিয়ানমারের জান্তাকে অস্ত্র সরবরাহ করছে চীন, রাশিয়া ও সার্বিয়া

সমীকরণ ডেস্ক- মিয়ানমারের জান্তাকে অস্ত্র সরবরাহ করছে চীন, রাশিয়া ও সার্বিয়া। গত বছরের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের জান্তাকে অস্ত্র সরবরাহ করছে চীন,...

চলতি বছরেই ৬২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি

সমীকরণ প্রতিবেদক - নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর আওতায় দেশের ৬২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চলতি বছর সপ্তাহে দুই...

বাংলাদেশ-ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে তিস্তা নিয়ে আলোচনা

সমীকরণ প্রতিবেদক- প্যারিসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী...

মাঘের শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চলের মানুষ

সমিকরণ প্রতিনিধি- মাঘের শীতে কাঁপছে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তীব্র শীত আর কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে এ অঞ্চলের মানুষের জবুথবু অবস্থা। আগুন জ্বালিয়ে শীত...