Saturday, July 11, 2020
Home কক্সবাজার ‘আম্পান’ ২০ বছরে আঘাত হানা প্রবলতম ঘূর্ণিঝড় হতে পারে

‘আম্পান’ ২০ বছরে আঘাত হানা প্রবলতম ঘূর্ণিঝড় হতে পারে

সমীকরণ ডেস্ক- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ আজ বুধবার বিকেল বা সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

‘আম্পান’ ২০ বছরের বেশি সময় পর এ অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। ১৯৯৯ সালে ওডিশার উপকূলে আঘাত হানা প্রবল এক ঘূর্ণিঝড়ে ভারতে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় আম্পান উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

আজ বুধবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এ সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে মঙ্গলবার জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এক বুলেটিনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করার সময় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় উপকূলীয় তিন জেলা খুলনায় ৩৬১, বাগেরহাটে ৩৩৪ ও সাতক্ষীরায় ৪৪৭ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ‘(আজ) বুধবার আম্পানের প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলে।’

উপকূলের উপজেলাগুলোর লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং চলছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস ৯ উপজেলায় ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, আম্পানে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা থাকবে। সাইক্লোন প্রিপার্ডনেস প্রোগ্রামের (সিপিপি) আওতায় দুই হাজার ৪৬০ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার এক হাজার ১০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সে কারণে উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সব স্কুল-কলেজকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাবি সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের কাছে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনার ৩৬১ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের ১০৮, কয়রার ১১৬, পাইকগাছার ৪৫ ও বটিয়াঘাটার ২৩টিসহ ২৯২টি আশ্রয়কেন্দ্রকে আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

- Advertisment -

সব খরব

চিত্রশিল্পী ডালিয়া সুলতানা সনি করোনাকালে কিভাবে চলছেন তার জীবন গল্প

  সমীকরণ প্রতিবেদক- ডালিয়া সুলতানা সনি  একজন চিত্রশিল্পী। তিনি রাজশাহী ভার্সিটি চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পড়াশোনা করেছেন । ছোট কাল...

কি করে ভুলবো তোমায় —উৎসর্গ –লিজা

তুমি ভেবেছিলে তুমি জিতে গেছো?আমাকে একা করে রেখে গিয়ে? হঠাৎ যখন ব্যথ্যায় 'মা ' করে...

ঝিনাইদহে করোনায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বোনসহ উপসর্গে তিনজনের মৃত্যু

ঝিনাইদহ অফিস- ঝিনাইদহে দিন যতই যাচ্ছে ততই করোনার আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। মানুষ সচেতন...

‘আমরা চোর ধরে চোর হয়ে যাচ্ছি’ সমীকরণ প্রতিবেদক: ‘টেস্টের জন্য খুব ভালো টেকনিক্যাল লোক দরকার। তাদের রোগীর বাড়িতে যেতে...